ছন্দপতন

74954867

আমি কয়েক বছর ধরে ব্লগে প্রায়ই সিরিয়াস জিনিস পত্তর লিখে আসছি। কিন্তু ব্লগে লেখার মানেই কি সিরিয়াস জিনিস পত্তর লিখতে হবে?

হবে না। মাঝে মধ্যে মনে যা আসবে তাও হঠাত করে লিখে ফেলা উচিত। তাতে মন হালকা হবে। এই ব্লগ খোলার অনেক উদ্দেশ্য ছিল। একটা উদ্দেশ্য ছিল ডিউটি (যারা কাতারে থাকে, তারা দৈনন্দিন কাজকে বলে ডিউটি) থেকে ফিরে এসে লেখালেখি করে মনের স্ট্রেস কমানো। সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ব্লগের হওয়া উচিত “স্বাধীনতা আমার যেমন ইচ্ছে লেখা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ”।

মানুষের জীবনটা যান্ত্রিক। ঘুম থেকে ওঠ। ডিউটিতে যাও। রুটিন মাফিক কাজকর্ম কর। বসকে খুশি কর। বাসায় ফিরো। গোসল কর। নামায পর। খাওয়া-দাওয়া কর। তারপর আবার ঘুম। ঘুমের মানে হল নিত্যদিনের চক্রের জন্য নিজেকে আবার তৈরি করা।

প্রাত্যহিক এই চক্র একঘেয়েমিকর। তবে আমরা প্রায়ই এই একঘেয়েমি জিনিসটি ধরতে পারি না। মানিয়ে নেই। আমাদের মানানোর ক্ষমতা অনেক। আমাদের মনে হতে থাকে যে এই চক্রের আবর্তনই স্বাভাবিক। এভাবে দিন যায়। রাত যায়। মাস যায়। বছর পেরোয়।

তবে মাঝে মধ্যে এই চক্রের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হঠাত একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হয় যে কোথাও কোন ছন্দপতন হয়েছে। সূক্ষ্ণ ছন্দপতন। বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। কারণ বাইরের সব কিছু ঠিকঠাক থাকে। কিন্তু যার এই ছন্দপতনটা হয়, শুধু সেই বুঝতে পারে। কিন্তু কাউকে বলতে পারে না। বলতে গেলে সবাই বলে, ছন্দপতন কেন হল বা কোথায় হল—কারণ ত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। যার ছন্দপতন হয়েছে, সে নিজেও বলতে পারে না কারণটা কি! তবে ছন্দপতন যে হয়েছে, সেটা অনুভব করতে পারে। মনে হয় জিনিসটা খালি অনুভবের বিষয়। শুধু অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

এই ছন্দপতন বিষয়টা টেম্পোরারি, পারমানেন্ট না। তবে যখন ছন্দপতন অবস্থা চলতে থাকে, তখন অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে আসে না। জোর করে আনতে হয়। জোর করে যে কোন কিছু করাই কষ্টের। সব চেয়ে বেশি কষ্ট যখন মানুষকে জোর করে অভিনয় করতে হয়।

দুঃখের বিষয় হল, মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি করতে হয় অভিনয়। এত অভিনয়ের কারণেই আমাদের জীবনে ক্লান্তি এবং স্ট্রেস বেশি। হয়ত আপনার বস আপনাকে এমন কিছু করতে বলেছে যেটি আপনার কাছে আহাম্মকি ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। তবে আপনাকে হাসি দিতে হবে এবং ভান করতে হবে যে আপনি এই পৃথিবীর আনন্দময় কাজগুলোর একটি করতে যাচ্ছেন।

কোন দিন হয়ত কাজেই যেতে ইচ্ছা করবে না। তবে আপনাকে অবশ্যই কাজে যেতে হবে এবং স্বাভাবিক থাকতে হবে। এবং কাজ করতে হবে।

মাঝে মধ্যে হয়ত কথা বলতে ইচ্ছা করবে না। কিন্তু হাসি মুখে কথা বলতে হবে। নইলে লোকে বলবে, ভাব লয়।

ছন্দপতন বিষয়ক এই জ্ঞান-গর্ভ লেখার এখানেই ইতি টানতে হচ্ছে। কারণ যেকোন সময় আম্মু এসে পরতে পারে এবং লেখালখি দেখলেই জিজ্ঞেসে করবে, “বাবু কি লিখছিস?” যে জিনিস শুধু অনুভব করা যায়, ব্যাখ্যা করা যায় না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যার ঝামেলায় যাওয়ার কি কোন দরকার আছে?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s