Category Archives: Open Letter/Dawah

জাফর ইকবালের “তোমরা যারা শিবির করো” বনাম এক যুবকের “তোমরা যারা জাফর ইকবালকে পছন্দ করো”

Dr. Zafar Iqbal, a well known scientist and science fiction writer of Bangladesh, recently published a column in Prothom Alo to criticize the activities of Chatro Shibir, the student wing of Bangladesh Jamaate Islami. As he always does, and there is no doubt that he does this intentionally, in the process of criticizing Chatro Shibir, Dr. Iqbal once again openly showed his hatred for Islam. Dr. Iqbal is a well known atheist, and through countless articles published in many dailies, he publicly confirmed his extreme dislike for Islam. So, this recent column titled তোমরা যারা শিবির করো is not unique. Nonetheless, Brother Tanvir Ahmad Arjel produced a fitting reply to Dr. Iqbal’s recent column, and Tanvir’s reply has been cross-posted below from his facebook note. I would like to make it clear that neither brother Tanvir nor I endorse or associate ourselves with Jamaate Islami in any form, since Jamaat’s ideologies are not compatible with Islam at all. Rather Brother Tanvir’s reply only points out how Dr. Iqbal bashed Islam in the name of bashing Jamaate Islami.

_____________________________________________________________

14703_4367508980927_1058158942_n

বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম

স্যার আমি জানি আমার এই লেখা হয়তো আপনার কাছে পৌঁছবেনা, পৌঁছলেও হয়তো পড়ে দেখার সময় আপনার হবে না। তারপরেও লিখলাম যেন আপনার অন্ধ অনুসারীরা আপনাকে অনুসরণ করার আগে,আপনার কথাগুলো, আপনার চিন্তাগুলো মেনে নেয়ার আগে একটু চিন্তা করেন।

স্যার প্রথমেই বলে রাখি আমি কোন শিবির কর্মী না বা জামাতের কেউ না। তারপরেও আপনার তোমরা যারা শিবির করো লেখাটির উত্তর দিতে বসলাম কারণ আপনার এই লেখার কিছু কিছু বিষয় এতই নিচু মানের মূর্খের মতো মনে হয়েছে যে একজন রিক্সাওয়ালাও আপনার চেয়ে এই বিষয়গুলোতে ভালো বুঝে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি ছাত্র শিবিরের ছেলেদের নিয়ে অনেক হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন অনেকটা লোক দেখানো কপট ভালোবাসার মত। হয়তো অনেকেই আপনার এই কপট চরিত্রটি বুঝে উঠতে পারবেনা কারণ আপনি হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ ধূর্ত অমানুষ (অমানুষ বললাম কারণ যে তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনেনা আমি তাঁকে অমানুষই বলি)। ছাত্র শিবিরের ছেলেদের নিয়ে আপনার যে হতাশা তা কিন্তু এই জন্যে নয় যে তারা যুদ্ধাপরাধী জামাতের আনুগত্য মেনে নিয়েছে বরং তারা যে ইসলামকে পছন্দ করে বা ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে চায় এই জন্যেই আপনার এত হতাশা। কারণ আমি কোনদিন আপনাকে ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের ছেলেদের নিয়ে আক্ষেপ করতে দেখিনাই কারণ তারা সন্ত্রাসী করুক,চাঁদাবাজি করুক আর ধর্ষণের সেঞ্চুরি করুক বা আর যাই করুক না কেন অন্তত তারা মৌলবাদী না, তারা ইসলাম মানেনা। তারা ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহরা আর মেয়েদের ওড়না টেনে নিয়ে গেলেও আপনি তাঁদের নিয়ে অনেক আশাবাদী ,আপনি তাঁদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন কারণ তারা আর যাই করুক না কেন তারা অন্তত ইসলামের ধার ধারেনা, নৈতিকতার ধার ধারেনা। আমি ভালো করেই জানি আপনার কাছে ছাত্র শিবির, হিযবুত তাহরীর বা তাবলীগ, এমনকি কোন দল না করা ইসলামপন্থী ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ইসলামপন্থী সবাই আপনার কাছে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ, সেকেলে এবং উগ্রবাদী। আপনার যত হতাশা সকল ইসলামপন্তী ছেলেমেয়েদের নিয়েই। আপনার এই চরিত্রটা এখন আর কোন সচেতন মানুষের অজানা নয়। আপনি নিজেকে খুব মুক্তমনা দাবী করেন করেন কিন্তু আপনি নিজেকে নিয়ে কখনো একবার ভেবে দেখেননি যে আপনি কত বড় সঙ্কীর্নমনা, কত বড় সেকেলে। আপনি আপনার লেখায় লিখেছেন যে ছেলেমেয়েরা যেন এই তরুণ বয়সে এইসব ধর্ম কর্ম বাদ দিয়ে মুক্তমনা হয়, অসাপ্রদায়িক হয়, রবীন্দ্রসংগীত  শোনে আরও কত কি? তবে সবচেয়ে ভয়াবহ যেটা বলছেন সেটা হল আপনি চান এই বয়সে তরুণ ও যুবক ছেলেরা মেয়েদের সাথে প্রেম করবে!! ঘুরে বেড়াবে!!আড্ডা দিবে এবং মাঝে মাঝে সইতে না পেরে লিটনের ফ্লাটে যাবে। স্যার এবার আপনাকে কিছু কড়া কথা বলবো। স্যার আপনি যেমন মুক্তিযুদ্ধের সকল হত্যাকাণ্ডের জন্যে জামাত ও ছাত্রসংগকে দায়ী করেন ঠিক এমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী বাংলাদেশে যতগুলো ধর্ষণ হয়েছে, বয়ফ্রেন্ডের দ্বারা যতগুলো মেয়ের সেক্স ভিডিও বের হয়েছে, যতগুলো ছেলেমেয়ে প্রেমঘটিত বিষয়ে আত্মহত্যা করেছে, এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছে তার সবগুলোর জন্যে দায়ী হচ্ছেন আপনি, আপনার মত পরগাছা বুদ্ধিজীবিরা আর আপনার এবং অশ্লীলতার প্রচারক প্রথম আলো গংরা। কারণ আপনি, আপনার মত কুবুদ্ধিজীবিরা এবং প্রথম আলো গংরা এইসব মতবাদ ও অশ্লীলতার ধারক, বাহক এবং প্রচারক। স্যার আমার খুব জানতে মন চায় আপনার মেয়ে যদি কোন ছেলের সাথে প্রেম করে সেক্স করে তারপর ছেলেটি সেই সেক্স ভিডিও বাজারে ছেড়ে দেয় তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আমি জানি আপনি বলবেন প্রেম করাটা, প্রেম করে সেক্স করাটা কোন অপরাধ নয় কিন্তু ভিডিও করাটা, তারপর প্রেম ভেঙ্গে গেলেই সেই ভিডিও বাজারজাত করাটা অন্যায়, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা। এমনকি আপনি তখন আপনার মেয়ের সাফাই গাইতেও ভুলবেন না, বলবেন আপনার মেয়ে কোন ভুল করেনি, আপনার মেয়ে ছেলেটিকে বিশ্বাস করেছে, বিশ্বাস করে ভালোবেসে বিছানায় গিয়েছে। স্যার আপনাদের মত জাফর ইকবালদের কারণেই আজকের এই  পৃথিবীতে এত অশান্তি, এত সন্ত্রাস, এত চাঁদাবাজি, এত নোংরামি। আপনাদের মতো জাফর ইকবালদের কারণেই এই পৃথিবীটা সুস্থ মানুষদের জন্যে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আপনাদের মত জাফর ইকাবালদের কারণেই পৃথিবীটা অনৈতিকতায় ভরে গেছে, আপনাদের মত জাফর ইকবালদের কারণেই একজন মা তার মেয়েকে বাহিরে পাঠিয়ে শঙ্কিত থাকে কখন না জানি তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয় কারণ আপনাদের মত জাফর ইকবালরা ধর্ষণ মতবাদের প্রচারক, নৈতিকতাহীন মতবাদের প্রচারক। স্যার মনে করিয়েন না আপনাদের এইসব কর্মের জন্যে কোন হিসেব বা জবাবদিহিতা করতে হবে না। ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি দিয়ে এই পৃথিবীর কাঠগড়া পাড়ি দিতে পারলেও আখিরাতের কাঠগড়া কখনোই পাড়ি দিতে পারবেন না যতদিন না বেঁচে থাকতে এইসব কাজের জন্যে তওবা করে পরম করুণাময়ের পথে ফিরে আসেন। স্যার শেষ করার আগে আপনার সাথে সুর মিলিয়ে আমিও কিছু কথা বলতে চাই-

“কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করে এই ছোট্ট জীবনে সবচেয়ে বিচিত্র, সবচেয়ে অবিশ্বাস কি দেখেছ আমি অবশ্যই বলবো জাফর ইকাবালদের দেখেছি, দেখেছি তাঁদের অনুসারীদের। তার কারণ, যে জীবনটি হচ্ছে একটা পরীক্ষা ক্ষেত্র, রবের ইবাদত করে কাটানোর সময় সেই সময়ে তারা কি করে সেই রবের অকৃতজ্ঞতায় কাটায়, ইসলাম বিরোধিতায় কাটায়। যে সময়টাতে তাঁদের হাতে থাকার কথা আল কোরআন, আল হাদিস, আল্লাহ্‌ রাসুলের জীবনী সেই সময়টাতে কি করে তারা রাসেল, আরজ আলী মাতাব্বর আর নৈতিকতাহীন প্রেমের উপন্যাস পড়ে কাটায়। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন জাফর ইকবালদের হাতে, তাঁদের অনুসারীদের হাতে এইসব বইয়ের পরিবর্তে থাকবে আল কোরআন, আল হাদিস আর আল্লাহ্‌ রাসুলের জীবনী। আমার সেই স্বপ্ন যেন আল্লাহ্‌ তায়ালা বাস্তবে পরিণত করেন এই দোয়া রেখেই আমার এই লেখা শেষ করছি।” তবে শেষ করার আগে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের উদৃতি দিয়ে শেষ করতে চাই। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ-

“আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা আদৌ দেয়াই না হতো এবং আমার হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম তাহলে কতই না ভালো হতো। হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো! আজ আমার অর্থ সম্পদও কোন কাজে আসলো না। আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিও বরবাদ হয়ে গেল।”– সুরা আল হাক্কাহঃ ২৫-২৯

হুমায়ূন আহমেদকে খোলা চিঠি

জনাব হুমায়ূন আহমেদঃ

বাংলা উপন্যাসের সাথে আমার পরিচয় হয় আপানার ‘পোকা’ উপন্যাস পড়ার মাধ্যমে। ‘পোকা’ আমার জীবনে পড়া প্রথম উপন্যাস।  তখন  আমি ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। আমাদের ক্লাসে তখন সবাই আপনার উপন্যাস পড়ত নেশার মত। এরপর দ্বিতীয় যে উপন্যাসটি পড়েছিলাম, তার নাম ছিল ‘দারু চিনি দ্বীপ’। তারপর আরো অনেক উপন্যাস পড়েছি। পড়তে পড়তে কোন শব্দগুলো আপনার উপন্যাসে প্রায়ই থাকত তার একটা তালিকাও তৈরি করেছিলাম। তালিকার কয়েকটি শব্দ এখনো মনে আছে। এগুলো হল, “বিসমিল্লা রেস্টুরেন্ট, লেবেন্ডিস, নাদান…।”

সময়ের সাথে মানুষ বদলে যায়। “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে বদলায়, অকারণেও বদলায় (মুনীর চৌধুরীর এই উক্তি হুবহু উদ্ধৃত করতে পেরেছি কিনা সন্দেহ আছে)।” আমি সেরকম বদলে গেছি। কিছু কারণে বদলে গেছি, কিছু অকারণে বদলে গেছি। আজকাল আর উপন্যাস পড়তে ইচ্ছা করে না। কিন্তু তারপরও আপনার কিছু বই এখনো রয়ে গেছে। ফেলে দেই নি। উপন্যাস না পড়লেও আপনার লেখার স্টাইলের প্রতি এক ধরণের admiration রয়ে গেছে। এত সহজ সরল ভাবে আপনি মানুষের জীবন প্রবাহ বর্ণনা করতেন, মনে হত, “কলম ধরলে ত আমিও এভাবে লিখতে পারব।” তবে কলম ধরার পর দেখি  যে আপনার মত সাবলীল ছন্দে লিখতে পারছি না।তবে মাঝে মধ্যে বাংলায় লেখালেখি করার সময় এখনো সজ্ঞানে আপনার স্টাইলে লেখার চেষ্টা করি।

সহজভাবে একটি কথা বলার জন্য আজকে এই খোলা চিঠি লিখছি আপনাকে। তবে সহজ কথা অনেক সময় জটিলভাবে বলতে হয়। তবে আমি এখানে অন্তত সংক্ষিপ্তভাবে বলার চেষ্টা করব।

আপনার উপন্যাস পড়ে আমার মনে হয়েছে, মৃত্যু নামক ব্যাপারটার প্রতি আপানার আগ্রহ রয়েছে, বিশেষ করে মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে। মৃত্যু পরবর্তী জীবন কেমন হতে পারে তার বিভিন্ন কাল্পনিক বা মনগড়া বর্ণনা আপনি আপানার কয়েকটি উপন্যাসে দিয়েছেনও। একই সাথে আপনি আবার বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কম আয়ু নিয়ে আফসোস প্রকাশ করেছেন। আপনার মতে, মানুষের মত বুদ্ধিমান প্রাণীর কমপক্ষে ৫০০ বছর বাঁচা উচিত। সর্বশেষ আমেরিকা সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে প্রথম আলোর কাছে দেয়া সাক্ষাতকারে আপনি বলেছেন যে আপনি বিশ্বাস্ করেন মানুষ একসময় বিজ্ঞানের মাধ্যমে মৃত্যুকে জয় করতে পারবে। আপনার প্রকাশিত ধারণাগুলো contradictory। একদিকে আপনি মৃত্যু পরবর্তী জগত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, আবার একই সাথে মৃত্যুর প্রতি আপনার অনীহাও রয়েছে। কোন দিকের পাল্লা ভারী? আপনার মতামতে এই স্ববিরোধিতা কেন প্রকাশ পেয়েছে?

আজ আমরা ভোগবাদী জীবনে অভ্যস্ত। ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থার প্রধান বাধা হল জবাবদিহিতা এবং মৃত্যু। এজন্য ভোগবাদী সমাজে মৃত্যু বা জবাবদিহিতা নিয়ে কখনো কোন কথা বলা হয় না। আমি নিজে আমেরিকানদের সাথে মৃত্যু নিয়ে কথা বলার অনেক চেষ্টা করেছি। কখনো একজনকে পাই নি যিনি মৃত্যুর বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। তাদের মানসিকতা হল, “Don’t you have something better to talk about? Let’s not talk about that thing now. Enjoy life.” কিন্তু কোন বিষয় যখন সুনিশ্চিত, তখন আপনি সেই বিষয়টিকে অস্বীকার করতে পারবেন না, বড়জোড় ভুলে থাকতে পারবেন। ভুলে থাকার জন্য আপনাকে আপনার চারপাশে একটি delusional layer তৈরি করতে হবে। আজ আমরা ভোগবাদীরা আমাদের চারপাশে সেই আস্তরণ তৈরি করছি। কারো জন্য সেই আস্তরণ হল ক্ষমতা। কারো জন্য টাকা-পয়সা। একেক ভোগবাদীর জন্য আস্তরণটা একেক রকম।

কিন্তু সমস্যা হল, এই আস্তরণে একটা ফুটো রয়েছে। এই ফুটোর নাম হল conscience। খরগোশ যখন শিকারির সামনে ধরা পরে, তখন মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও চোখ বন্ধ করে একধরণের সান্ত্বনা পেতে চায়। খরগোশ ভাবে, আমার সামনে ত কেউ নেই। কিন্তু এই সান্ত্বনা কি খরগোশকে কোন সান্ত্বনা দিতে পারে? পারে না। কারণ তার এই সান্ত্বনায় একটা ফুটো রয়েছে এবং সেই ফুটোটা হল তার বাস্তব পরিস্থিতি। তেমনি আল্লাহ প্রদত্ত যে conscience আমাদের রয়েছে, সেই conscience এর কারণে এই delusional layer আমাদের কোন শান্তি দিতে পারে না। খুন করা অপরাধ এটা প্রমাণের উপায় নেই, কিন্তু প্রত্যেকেই জানে যে খুন করা ঠিক নয়। তেমনি আমরা আমাদের conscience থেকে জানি যে আমাদের কর্মের জবাব দিতে হবে এবং পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই জন্য শ্রেষ্ঠ ভোগবাদী জীবনের layer থাকার পরও আমাদের মনের মধ্যে একটা খচখচানি থেকেই যায়।

আপনি জ্ঞানী মানুষ। তবে যখন ভোগবাদী জীবনের মায়া প্রকট হয়েছে, তখন “মানুষের ৫০০ বছর বাঁচা উচিত” বা “মানুষ মৃত্যুকে জয় করবে” বলে মতামত দিয়েছেন। তবে ভোগবাদী জীবনের মায়া নিশ্ছিদ্র নয়; এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে যখন মৃত্যুর বাস্তবতা উঁকি দিয়েছে,তখন বাস্তবতাকে আলিঙ্গনের তাগিদ থেকে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে কি আছে তা জানার জন্য আগ্রহের উদ্রেক হয়েছে। তবে মৃত্যু থেকে পলায়নপর মানসিকতা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে। সেকারণে মৃত্যু পরবর্তী জীবন কল্পকাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

তবে এখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি কি এই পলায়নপর মানসিকতা নিয়ে জীবন-মৃত্যুর সীমানা পাড়ি দিতে চান? নাকি প্রস্তুতি নিয়ে, জেনে শুনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চান?

যদি দ্বিতীয় পন্থা অবলম্বন করতে চান, তাহলে তওবা করে, ইসলাম সম্পর্কে আকীদা শুদ্ধ করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন। যত শীঘ্র সম্ভব।

আমার চিঠি পড়ে আপনি হয়ত ভাবতে পারেন যে আমি ধরেই নিয়েছি যে আপনি আর বাঁচবেন না। না, আমি সেরকম কিছু মনে করি নি। কঠিন ব্যাধি নিয়েও মানুষ অনেক বছর বেঁচে থাকতে পারে। আবার সুস্থ মানুষও কোন দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারে। যেহেতু কেউ জানে না কার মৃত্যু কখন হবে, তাই আল্লাহর পথে ফিরে আসার ব্যাপারে procrastination মোটেই কাম্য নয়।

এই নাদানের চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কিনা জানি না, তবে আমি চাই এবং দোয়া করি এই চিঠিটা যেন আপনার কাছে পৌঁছে। পৌঁছালেও আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আপনার মেয়ের হিজাব পরা দেখে আপনার প্রতিক্রিয়া ছিল, “কেয়া বাত হ্যায়।” আশা করি এবং দোয়া করি আমার চিঠির জবাবে আপনার প্রতিক্রিয়া সেরকম হবে না।

বিনীত,

আল্লাহর-শার্দুল