Category Archives: Bangla Write-Up

কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষার কিছু ক্লাসিক ডায়ালগ

 

map_commillaবাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলারই রয়েছে স্বকীয় আঞ্চলিক ভাষা। আঞ্চলিক ভাষার রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। কোন একটি অঞ্চল ও সেই এলাকার মানুষকে ভাল মত বুঝতে হলে সেই এলাকার আঞ্চলিক ভাষাটিও বুঝতে হয়। আমি কুমিল্লার মানুষ। এবারের দেশের ছুটিতে গিয়ে দেশের মানুষের ভাষা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। সেই শোনা থেকে কিছু কথা নিচে তুলে ধরলাম, যেগুলোকে আমার মনে হয়েছে কুমিল্লার ক্লাসিক ডায়ালগ।

 
০১.
আমাদের বাড়ির ঊঠোনে মাটি ফালানোর জন্য গ্রামের কয়েকজন এসেছিলেন। এদের একজন আমাকে বলছিলঃ

“তোমার বুজি এনা আমগোরে চিনে, আমগোরে দেখলে অনে হ্যাঁক্যাইলোইলে, অই চোরেরা, তোরা কই যাস?”

 
০২.
একটা সদাই আনার জন্য গ্রামের বাজারে যাচ্ছিলাম এক বিকেলে। সড়কের মোড়ে শোনলাম এক যুবক আরেকজনকে বলছেঃ

“ওই, তুই বলে জেসমিনরে বিয়া করবি?”

 

০৩.
বাঞ্ছারামপুর বেড়াতে গিয়েছিলাম আমার দূর সম্পর্কের এক নানার বাড়িতে। নানার এক সৎ ভাই নানার জমিগুলো চাষবাস করেন। জমিতে শীতের প্রায় সব শাক-সবজি ছিল। বিশাল ক্ষেতের এক জায়গায় দেখলাম কিছুই নেই। জিজ্ঞেস করলাম, “নানা, এই জায়গাটা খালি কেন?” নানা বললেনঃ

“বান্যাইছিলাম, অয় নাই।”

 
০৪.
জুমুয়ার নামাযের সালাম ফিরালেন ইমাম সাহেব। সেদিন পেছনের সারিতে মাদ্রাসার ছোট ছাত্ররা খুব আওয়াজ করছিল নামাযের সময়। নামাযের সময় তাদের এই দুষ্টুমিতে বিরক্ত বয়স্ক মিজান সাহেব হেঁকিয়ে উঠলেনঃ

“আমি কি নামাযের সময় হুজুরের ক্বিরাত হুনমু, নাকি ছুইটক্যাগর আওয়াজ হুনমু? এই ছুইটক্যাগুলিরে মসজিদে না আনলে হয় না?”

 
০৫.
আমাদের বাড়িতে দেয়ালে প্লাস্টারের কাজ করছিল দুই রাজমিস্ত্রী। তাদের কথোপকথনের একাংশঃ

প্রথমজনঃ হে যেই দেমাক দেখাইত!
দ্বিতীয়জনঃ কাইজ্যা লাগলে কইত-তোর মাথাত যেতলা চুল, আমার এর চেয়ে বেশি ট্যাকা…
প্রথমজনঃ অহন নাই, গ্যাছে গা সব…
দ্বিতীয়জনঃ শুনছি খালি দুইটা পুত আসে সিঙ্গাপুর
প্রথমজনঃ নামে আসে, কামে নাই
দ্বিতীয়জনঃ একটা আইসে হেদিন দেশে। জিগাইলাম, কি আনসোস? কয় মামা, খালি জানডা লয়া আইসি, কিচ্ছু আনি নাই”

 
০৬.
উপজেলা শহর হোমনায় বাজার করতে গেছি একদিন। হঠাৎ এক রিকশার চাকার সাথে আরেক রিকশার চাকার সংঘর্ষ লাগল। পাশের আরেক রিকশাওয়ালা চেঁচিয়ে উঠলঃ

“ক্ষ্যাপাজ্যাপা কইরা রিকশাডা লাগায়া দিছে, ড্রেইভার হইসে রে, ড্রেইভার হইসে!”

 
০৭.
বালু আর মাটি সরানোর কাজ করছিল দুই শ্রমিক। তাদের মধ্যকার কথোপকথনঃ

প্রথমজনঃ কি মারস?
দ্বিতীয়জনঃ চ্যালা।
প্রথমজনঃ মারস কিত্তি, ইডি কামড়ায় না।
দ্বিতীয়জনঃ কোনডি কামড়ায়?
প্রথমজনঃ যেডি পুটকি উপরের দিক দিয়া হাঁডে!

 
০৮.
বাজারে টমেটো বিক্রি করছিল এক সবজিওয়ালা। এক ক্রেতা হাঁকালোঃ

“বাগুন কত?”
“তিরিশ”
“আরে কমান না?”
“এক দাম তিরিশ। আরে নিয়া দেহেন না বাই, মুখের মইধ্যে দিলে মোমের মত গইল্যা যাইবোগা”

 

০৯.
এক শাঁক বিক্রেতা আমার আব্বুকে দেখে বলে ওঠলোঃ

“ভাই, এক দিনও শাঁক বেঁচতে পারলাম না আপনের কাছে।”
“বাসায় খাওয়ার মানুষ নাই, কেউ খায় না।”
“না খাইলে জোর কইরা খাওয়াইবেন।”

 
১০.
নিচের কথাগুলো আমার দাদির। দাদির বয়স ৮২ বছর। দাদির মনে জমা আছে এই সুদীর্ঘ জীবনের রাজ্যের গল্প। একবার গল্প শুরু করলে, গল্প আর শেষ হয়না। কষ্ট হলেও অনেক গুল্প শুনেছি দাদির। সেই সব গল্পের কিছু অংশঃ

“আমার হেই ছোড পোলাডার চোখগুলি আসিল ডাঙ্গর। আর শইল্যের রঙডা আছিল দুধের মত, ছাই দিয়া খেললেও কালি লাগত না শইল্যের মইধ্যে। জরা বানায়া ভাত খাইত, এক জরা খাইত, আর এক জরা কাউয়ারে দিত।”

“তোর দাদায় যেদিন মরছে, হেদিন খাওয়াইয়া ফোতায় দিসি। কিছুক্ষণ পরে দেহি আর কতা কয় না।”

“মিসা কতা কেরে কমু, হেসা হেসা কতা কমু।”

“কম খাইলে নি রিজিকটা থাহে।”

“আমি জবর কস্ট করসি আমার বাপের বাইত, আমি সম্পত্তি না আনলে হালাল হইব না।”

“পানি ভাত লৈইয়া কাইজ্যা করত আমার পোলা-মাইয়ারা। সৈ সান দা পানি ভাত খাইতো।”

“পোলায় এনা মারে ফালায় দে, মায় কি পোলারে ফালায় তারে?”

“তোমার দাদায় যে হাউস কইরা বিয়া করছিল, সারাডা জীবন এই হাউসডা আসিল। আমারে সব সময় তুমি কইরা কইসে।”

“আমার দান-খরায়তের কথা তোমগরে কি কমু, কেউ যদি আমার কাছে কিছু চায়, কোম্বালা হেই জিনিসটা হেরে দিমু,খালি হেই চিন্তাডা মাথাত ঘুরে। আগে মাইনষেরে যে দেওয়া দিসি, সেই গন্ধেই ত মানুষ এহনো আইয়ে আমার কাছে। কিন্তু এহন কি আর দিতারমু? সংসার চালায় পুতের বউ।”

কয়েকটি সংকলিত কবিতা

যারা কবি, তারা নিজেরা কবিতা লেখে। যাদের কবি প্রতিভা নাই, তারা অন্যের ধার করা কবিতা ব্লগে কপি পেস্ট করে।

নিচে আমাদের হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক আব্দুর রহিম রেজা স্যারের কয়েকটি কবিতা পোস্ট করলাম। স্যার খুব ভাল কবিতা লেখেন।

 

***

এই নবান্নে
-রহিম রেজা
এই নবান্নের কুয়াশামাখা ঝিল্লিমুখর সন্ধ্যায়
গ্রামের বাড়ির খড়-বিছানো মেঠো আঙিনায়
তুমি আর আমি শুনবো রূপকথার রঙিন গল্প
আর মেতে ওঠবো চাঁদের বাধ-ভাঙা আলোয়
স্বপ্ন-রাঙা মন নিয়ে অসীম কল্পনায়।

***

তোমাকে ভালোবেসে
-রহিম রেজা
তোমাকে ভালোবেসে
আমি হয়েছি দারুণ ঐশ্বর্যশালী
তোমাকে ভালোবেসে
আমি হয়েছি কারো কারো চোখের বালি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি ভাসি হয়ে আকাশে মেঘের ফালি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি জমিনে ভরা পূর্ণিমার ছায়া ঢালি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি হাসি হয়ে বাতায়নের কদম-কলি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ হয়ে কথা বলি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি ভোরের পাখি হয়ে সবুজ বনে চোখ খুলি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি কাঠাল পাতায় বিকেলের সোনালি রোদ ফেলি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি গ্রামের মেঠো পথ হয়ে এঁকেবেঁকে চলি
তোমাকে ভালোবেসে
আমি ছড়াই সৌ্রভ হয়ে বাগানের চম্পা-বেলী
তোমাকে ভালোবেসে
আমি ভরা জোয়ারেও চলি প্রতিকূলতার উজান ঠেলি।

***

আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
-রহিম রেজা
আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
স্বপ্নগুলো কথা দিল
তারা আর কিছুদিন পর
বাঁধবে সুখের ঘর
আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
স্বপ্নগুলো কথা দিল
তারা বষ্ণিতদের মাঝে
আসবে নতুন সাঝে
আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
স্বপ্নগুলো কথা দিল
তারা ছোট্ট শিশুর মনে
দিবে খুশীর জোয়ার এনে
আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
স্বপ্নগুলো কথা দিল
তারা ভণ্ড কাঊকে পেলে
কানটা দিবে মলে
আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
স্বপ্নগুলো কথা দিল
তারা দেশ মাতৃকার তরে
লড়বে অকাতরে
আমার কিছু স্বপ্ন ছিল
স্বপ্নগুলো কথা দিল
তারা দিন বদলের গানে
ছুটবে উজান পানে।।

***

সখি,শ্রাবণ যে চলে যায়
-রহিম রেজা
সখি
শ্রাবণ যে প্রায় চলে যায়
তাই সেই মায়ায়
আমার মতো তোমার হৃদয়ও কি পোড়ায়
সখি
শ্রাবণ যে হেসে জিগায়
তার তরে কি
অনেক ব্যথায়
মেঘলা আকাশ তোমায় কাঁদায়
সখি
শ্রাবণের এই বিদায়ের ক্ষণ
পাবে কি তোমার নিমন্ত্রণ
সখি
শ্রাবণের এই শেষ দিকের ঝিরি ঝিরি সন্ধ্যায়
তোমার চোখে কি আমার স্বপ্ন ছুঁয়ে যায়
সখি
শ্রাবণের বাকী আছে যে কটি দিন
তার রঙে তোমার জীবন
আর আমার জীবন
হয় যেন রঙিন।

***

হৃদয়ে যখন ঝড় ওঠে
-রহিম রেজা
হৃদয়ে যখন ঝড় ওঠে
মনটা তখন তোমার মায়ায় ওঠে কেঁপে
হৃদয়ে যখন ঝড় ওঠে
তোমাতেই তখন এই মনটা দিই সঁপে
হৃদয়ে যখন ঝড় ওঠে
তোমার ভাবনায় তখন মনটা কাঁদে
হৃদয়ে যখন ঝড় ওঠে
মনটা জড়ায় তখন তোমার ফাঁদে
হৃদয়ে যখন ঝড় ওঠে
নিজেকে তখন ভুলে গিয়ে
তোমার আঁচলে থাকি মুখ লুকিয়ে।

হারিয়ে ফেলা জগৎ থেকে

5950740495_a0e0504a42_b

(https://www.flickr.com/photos/55293400@N07/5950740495/in/photostream/)

প্রতিটা বয়সে মানুষের একটা জগৎ থাকে।

যখন স্কুলে পড়তাম, তখন একটা জগৎ ছিল। যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম তখন একটা জগৎ ছিল। এখন কর্মজীবনে একটা জগৎ আছে।

কোন জগতের সাথে কোন জগতের মিল নেই। প্রতিটা জগৎ স্বতন্ত্র।

মানুষ যখন একটা বয়স পার করে অন্য বয়সে চলে যায়, তখন পুরনো বয়সের সাথে আগের সেই জগৎটাকেও হারিয়ে ফেলে।

চাইলেও সেই আগের জগতে ফিরে যাওয়া যায় না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

হারিয়ে ফেলা সেই জগৎ থেকে আজ মনে পড়ছেঃ

নেই কোনো কল্পনা আজ তোমায় নিয়ে
নেই কোনো প্রার্থনা আজ তোমায় চেয়ে
নেই কোনো কামনা তোমায় সাজিয়ে
নেই কোনো প্রেরণা তুমি কোথায় হারিয়ে

-নেই, তাহসান

আলো আলো আমি কখনো খুঁজে পাবে না

চাঁদের আলো তুমি কখনো আমার হবে না

-আলো, তাহসান

বাসর

real_love-normal5.4 আচ্ছা, তোমার কি এখনো মনে হচ্ছে যে আমরা বিবাহিত? ব্যাপারটা কি একটু ভড়কে যাওয়ার মত নয়? কেউ কাউকে চিনি না, জানি না, আর আজকে আমরা স্বামী-স্ত্রী। আমি এখনো ধাতস্থ হতে পারি নি। তবে এত সহজে ধাতস্থ হওয়ার কথাও না।

আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, জীবনে আমি কোনদিন কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করি নি। প্রেম করি নি। কোন মেয়েকে স্পর্শ করি নি। বিয়ের পবিত্র বন্ধনের আগে মানুষ প্রেম-ভালবাসা করে, এই সব জিনিস আমার কাছে খুবি নোংরা লাগে। আর এখন নিজের সামনে দেখি তোমার মত অপরূপা সুন্দরী একজন মেয়ে আমার স্ত্রী হিসেবে বসে আছে—যাকে আমি চাইলেই ছুঁয়ে দেখতে পারি, জড়িয়ে ধরতে পারি, চুমু খেতে পারি, কোলে নিয়ে আদর করতে পারি। আমার ত হ্যালুসিনেশন হওয়াই স্বাভাবিক। এবং হচ্ছেও তাই। আজকে তোমাকে কাছে পাওয়ার যে অনুভূতি হচ্ছে, তা কোনদিন কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। এটা হচ্ছে সেই অনুভূতি, যা শুধু অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

আচ্ছা, তুমি কি নিজেও জান তুমি কত রুপবতী? এই পৃথিবীতে এক ধরণের রুপবতী আছে, যাদের দিকে চোখ পড়লেই বুকে ধাক্কার মত লাগে। তাদের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। তুমি হচ্ছে সেই ধরণের রুপবতী। তবে তোমার দিকে আমি তাকিয়ে থাকব। কারণ তোমাকে না পাওয়ার বেদনা আমার হৃদয়কে বিদীর্ণ করবে না।

আমাদের কালচারের একটা দিক কি জানো……এই কালচারে কেই কারো জন্য ভালবাসা প্রকাশ করতে পারে না। স্বামী স্ত্রীকে বলতে পারে না ভালবাসার কথা। স্ত্রী স্বামীকে বলতে পারে না ভালবাসার কথা। ছেলে-মেয়েরা মা-বাবাকে বলতে পারে না ভালবাসার কথা। মা-বাবাও ছেলে-মেয়েকে বলতে পারে না তাদের ভালবাসার কথা। অথচ সবাই সবাইকে প্রচণ্ড ভালবাসে। তার চেয়ে বড় কথা হল, সবাই ভালবাসার কথা শুনতে চায়, কিন্তু সেই কথা কেউ সাহস করে, লজ্জা ভেঙ্গে শোনাতে পারে না। আমি চাই না আমাদের সংসার এরকম হোক। আমি চাই সেই সংসার যেখানে সবাই খুব সহজেই ভালবাসার কথা প্রকাশ করতে পারবে। কোন মেন্টাল ব্লক বা মানসিক বাঁধায় কেউ ভুগবে না।

আমি শুনেছি, দু জন মানুষ নাকি সারা জীবন ঘর সংসার করেও একজন আরেকজনকে চিনতে পারে না। আর আমাদের ত আজকে মাত্র বিয়ে হয়েছে। আমি তোমাকে ভাল করে এখনো জানি না, চিনিও না। তোমাকে ভাল করে দেখিও নি। তারপরেও কি মনে হচ্ছে জান? আমি তোমাকে চিনি এবং আমি তোমাকে জানি। এবং আমি তোমাকে ভালবাসি। চেনা জানা ছাড়াই তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। তোমাকে হৃদয়ের অংশ করে ফেলেছি। আমি এখানে অস্বীকার করছি না যে আমার ভালবাসায় একটা স্থূল অংশ রয়েছে। তবে বিশ্বাস কর, স্থূল অংশের চেয়ে সূক্ষ্ণ অংশের পরিমাণ অনেক বেশি।

একটা বয়স হবার পর, একটা ছেলের বুকের ভেতর ভালবাসা জমতে থাকে। এক সময় সে এই ভালবাসা কাউকে দিতে চায়। আমি কোনদিন আমার এই ভালবাসা কাউকে দেই নি। আজকেই দিচ্ছি প্রথম তোমাকে। তুমি হচ্ছ আমার জীবনে প্রথম। বুকের যত আটকানো ভালবাসা আছে, তার সবটাই তোমাকে দেব। সেই ভালবাসার গভীরতা তুমি কোনদিন অনুভব করতে পারবে না। সেই ভালবাসা অতলস্পর্শ। ভালবাসার কলসি উপুড় করে দেব, তবে সেই কলসি খালি হবে না কোন দিন।

আমি তোমাকে ভালবাসি। এখন বল কথাটা কি খুব সহজে বলতে পারলাম? মনে হয় না। কারণ কোনদিন কোন আপনজনকে ভালবাসার কথা বলি নি। সেজন্য প্র্যাক্টিস করতে হবে।

যখন ক্লাস নাইন টেনে পড়তাম, তখন মনটা অনেক রোমান্টিক ছিল। তখন গল্প উপন্যাস পড়তাম। রোমান্টিক ভাবনা-স্বপ্ন হুঁট করে মাথায় চলে আসত। পরে সময়ের সাথে বদলে গেছি। বাস্তবতার আঘাত মানুষকে বদলে দেয়। আমারো সেরকম হয়েছে। রোমান্টিক স্বপ্ন আগে যেরকম হুঁট করে চলে আসত, এখন আর সেভাবে আসে না। রোমান্টিক স্বপ্ন বিলাসিতার কথা বলতে এখন লজ্জা আগে।

তবে একটা স্বপ্নের কথা বলতেই হবে। খুবি কমন এবং সাদামাটা ধরণের স্বপ্ন। প্রতিদিন কাজ থেকে ফিরে এসে রাতে তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকব। আমার বুকে তুমি মাথা রাখবে। আর আমি তোমার চুলে বিলি কাটব। তুমি আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়বে। জানালা দিয়ে আসবে চাঁদের আলো। সেই চাঁদের আলোয় আমি দেখতে থাকব তোমার নিষ্পাপ মুখ। চুমু খাব। চোখ ফেরাব না। ঘুম থেকে ওঠার তুমি বলবে, এখনো তাকিয়ে আছ? আমি বলব, তাকিয়ে না থেকে কি কোন উপায় আছে? চোখ ফেরানো আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তোমার রূপের আগুনে চোখের কলকব্জা বিকল হয়ে গেছে।

আমার মনে হয় না আমি কোন রাতে ঘুমাতে পেরেছি এই স্বপ্ন না দেখে। আজকে কি সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার রাত নয়?

ছন্দপতন

74954867

আমি কয়েক বছর ধরে ব্লগে প্রায়ই সিরিয়াস জিনিস পত্তর লিখে আসছি। কিন্তু ব্লগে লেখার মানেই কি সিরিয়াস জিনিস পত্তর লিখতে হবে?

হবে না। মাঝে মধ্যে মনে যা আসবে তাও হঠাত করে লিখে ফেলা উচিত। তাতে মন হালকা হবে। এই ব্লগ খোলার অনেক উদ্দেশ্য ছিল। একটা উদ্দেশ্য ছিল ডিউটি (যারা কাতারে থাকে, তারা দৈনন্দিন কাজকে বলে ডিউটি) থেকে ফিরে এসে লেখালেখি করে মনের স্ট্রেস কমানো। সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ব্লগের হওয়া উচিত “স্বাধীনতা আমার যেমন ইচ্ছে লেখা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ”।

মানুষের জীবনটা যান্ত্রিক। ঘুম থেকে ওঠ। ডিউটিতে যাও। রুটিন মাফিক কাজকর্ম কর। বসকে খুশি কর। বাসায় ফিরো। গোসল কর। নামায পর। খাওয়া-দাওয়া কর। তারপর আবার ঘুম। ঘুমের মানে হল নিত্যদিনের চক্রের জন্য নিজেকে আবার তৈরি করা।

প্রাত্যহিক এই চক্র একঘেয়েমিকর। তবে আমরা প্রায়ই এই একঘেয়েমি জিনিসটি ধরতে পারি না। মানিয়ে নেই। আমাদের মানানোর ক্ষমতা অনেক। আমাদের মনে হতে থাকে যে এই চক্রের আবর্তনই স্বাভাবিক। এভাবে দিন যায়। রাত যায়। মাস যায়। বছর পেরোয়।

তবে মাঝে মধ্যে এই চক্রের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হঠাত একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হয় যে কোথাও কোন ছন্দপতন হয়েছে। সূক্ষ্ণ ছন্দপতন। বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। কারণ বাইরের সব কিছু ঠিকঠাক থাকে। কিন্তু যার এই ছন্দপতনটা হয়, শুধু সেই বুঝতে পারে। কিন্তু কাউকে বলতে পারে না। বলতে গেলে সবাই বলে, ছন্দপতন কেন হল বা কোথায় হল—কারণ ত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। যার ছন্দপতন হয়েছে, সে নিজেও বলতে পারে না কারণটা কি! তবে ছন্দপতন যে হয়েছে, সেটা অনুভব করতে পারে। মনে হয় জিনিসটা খালি অনুভবের বিষয়। শুধু অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

এই ছন্দপতন বিষয়টা টেম্পোরারি, পারমানেন্ট না। তবে যখন ছন্দপতন অবস্থা চলতে থাকে, তখন অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে আসে না। জোর করে আনতে হয়। জোর করে যে কোন কিছু করাই কষ্টের। সব চেয়ে বেশি কষ্ট যখন মানুষকে জোর করে অভিনয় করতে হয়।

দুঃখের বিষয় হল, মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি করতে হয় অভিনয়। এত অভিনয়ের কারণেই আমাদের জীবনে ক্লান্তি এবং স্ট্রেস বেশি। হয়ত আপনার বস আপনাকে এমন কিছু করতে বলেছে যেটি আপনার কাছে আহাম্মকি ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। তবে আপনাকে হাসি দিতে হবে এবং ভান করতে হবে যে আপনি এই পৃথিবীর আনন্দময় কাজগুলোর একটি করতে যাচ্ছেন।

কোন দিন হয়ত কাজেই যেতে ইচ্ছা করবে না। তবে আপনাকে অবশ্যই কাজে যেতে হবে এবং স্বাভাবিক থাকতে হবে। এবং কাজ করতে হবে।

মাঝে মধ্যে হয়ত কথা বলতে ইচ্ছা করবে না। কিন্তু হাসি মুখে কথা বলতে হবে। নইলে লোকে বলবে, ভাব লয়।

ছন্দপতন বিষয়ক এই জ্ঞান-গর্ভ লেখার এখানেই ইতি টানতে হচ্ছে। কারণ যেকোন সময় আম্মু এসে পরতে পারে এবং লেখালখি দেখলেই জিজ্ঞেসে করবে, “বাবু কি লিখছিস?” যে জিনিস শুধু অনুভব করা যায়, ব্যাখ্যা করা যায় না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যার ঝামেলায় যাওয়ার কি কোন দরকার আছে?

সঙ্কলিত পোস্ট – সাফওয়ানের ব্লগ থেকে

আমার সোনার বাংলা ওয়েবসাইটের ব্লগার সাফওয়ানের দুটি লেখা আজ চোখে পড়েছে, যেগুলো পড়ে মনে হল অনেক দিন পর শুভ বুদ্ধির কোন মানুষের লেখা পড়ছি। বাংলায় প্রকাশিত নিবন্ধ বা ব্লগ পোস্ট পড়া আমি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কারণ বাংলা লেখা আজকাল যেখানেই পড়ি, সেখানেই শুধু পাই বিশেষ কয়েকটি বিষয়ঃ মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, তথাকথিত আধুনিকতা ও মুক্ত চিন্তা, গণতন্ত্র, ইসলাম বিদ্বেষ ইত্যাদি ইত্যাদি। এসকল বিষয়ের আড়ালে যে জিনিসটি আমি সবসময় প্রত্যক্ষ করতাম, তা হল hypocrisy বা মোনাফেকী। সাফোয়ানের দুটো লেখা পড়ে এজন্য ভাল লাগছে যে দুটো লেখাই আমাদের সমাজে বিদ্যমান মোনাফেকীর বিরুদ্ধে কথা বলেছে।

সাফওয়ানের ব্লগের ঠিকানা হলঃ  http://www.sonarbangladesh.com/blog/safwan/

সাফওয়ানের ব্লগ থেকে লেখা দুটো নিচে ক্রস পোস্ট করা হল।

_____________________________________________________________

বিষণ্ণ তারুণ্য, মুগ্ধ কৈশোর

পোস্টের উৎসঃ http://www.sonarbangladesh.com/blog/safwan/137249

সাহিত্য টাইপের আলাপ করিনা এখন। অথচ সাহিত্য যেন একসময় রীতিমতন পানির সাথে গুলেই খেতাম। শরৎবাবুর উপন্যাস নিয়ে অনেকগুলো রাতে ঘুমাতে গেছি, বহুদিন শ্রীকান্তের সাথে লম্বা লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছি। পথের দাবী পড়তে গিয়ে অনেকবার প্রতিবাদী হয়ে সমাজকে সমান করে দেবার স্বপ্ন দেখেছি। মেজদিদির চোখের জল মুছে দিয়েছি মনে মনে অনেকবার, কেঁদেছি বড় দিদির জন্য — সে-ই আমার কৈশোর! সেই কিশোর মুগ্ধ আত্মায় ক্যাপটেন হ্যাটেরাসের সাথে মেরু অভিযানে গিয়েছে, ক্যাপটেন নিমোর সাথে সাগরতলে গিয়েছে, লাবন্য আর অমিতের চিঠি-কবিতায় উদাস হয়ে অমিত হয়েছে। কল্পনার লাবন্যকে কতশত চিঠি যে কেবল লিখে খসড়া হয়েছে তার হিসেব নেই। নৌকাডুবির হেমনিলিনীর কথা ভেবেও কষ্ট লাগে এখনো। লা মিজারেবলের জাঁ ভালজার কথা পড়ে কেঁদে বইয়ের পাতা ভিজিয়ে ফেলেছিলাম। রবিনসন ক্রুসোর সাথে দ্বীপে আমি মানুষখেকোদের আতঙ্কে লুকিয়ে থেকেছি একটানা অনেকদিন গুহার ভেতরে।

আমার কৈশোর ছিলো মুগ্ধতায় ভরপুর। জুলভার্নের সাথে জল-স্থল-অন্তরীক্ষে ভ্রমণ করেছি, কখনো হুমায়ূন আহমেদ, কখনো শরতচন্দ্র, কখনো রবীন্দ্রনাথের কবিতা, কখনো জীবনবাবুর সাথে ধানখেতের পাশে বকের ওড়াওড়ি, জোনাকপোকার জ্বলে যাওয়া, কখনো আর্থার কোনান ডয়েলের জগতে ওয়াটসন আর শার্লক হোমসের সাথে গিয়েছি রহস্য সমাধান করতে। এসব অনুভূতিদের সেই আবেগ অকৃত্রিম, মানবিক, ভালোবাসার ছিলো।

সেই কৈশোর বিদায় নিয়েছে অনেক বছর হলো। ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বয়সানুযায়ী সময়ের পার্থক্যগুলো বলো। ধারণা পেয়েছিলাম, ১২ থেকে ১৮-১৯ মনে হয় কৈশোর। ২৫ অবধি তারুণ্য। যৌবন এর পরেই। যৌবন মানেই জীবনের শেষ দিকে পদার্পণ। অর্ধাংশ শেষ। প্রৌঢ় পুরুষ তার সন্তানের ভরণপোষণের ব্যবস্থায় জীবন ব্যয় করে, বার্ধক্যে গুণে মৃত্যুর প্রহর…

মানুষের জীবনপ্রবাহ এমন অনেকটাঃ
শৈশব –> বাল্য –> কৈশোর –> তারুণ্য –> যৌবন –> প্রৌঢ় –> বার্ধক্য

শৈশবের পরে কৈশোরে এসেই যেন সেই পড়ার জগত হারিয়ে গেলো। আমার সেই বইয়ের পাতাগুলোতে আর রোদের আলো পড়েনা, হাতের স্পর্শও পড়ে না। তখন থেকে জীবনে বড় বড় পরীক্ষা এলো। মানুষ হতে হবে, বড় হতে হবে তাই মা-বাবাকে ছেড়ে দূরে পড়তে গেলাম। শারীরিক যন্ত্রণায় নিজেকে কখনই নিজের মতন পেতাম না। পাপকে চিনতে শিখলাম, পাপাসক্তদের পাশে থেকে পাপাচারী হতে শিখলাম। কোথায় সেই শুভ্রতার ভালোবাসা, জীবন তো হারিয়েই গেলো। কেউ বুঝেনি তারপর, কেউ না। সবাই বিচার করে, স্কেল ধরে আমাকে মাপতে বসে। আমি আমার পুরোনো আমিকে হারিয়ে ফেলি।

অনেক জোর করে বছর দুই যাবার পর বিমল মিত্রের কড়ি দিয়ে কিনলাম হাতে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এবারের যাত্রা আমার হবেই, দীপঙ্করের সাথে সেই রেলের চাকুরি করতে গিয়েছিলাম। তার সাথেই রেলের কোয়ার্টারে থাকতে শুরু করেছিলাম। টার্ম ফাইনাল চলে এলো, স্যারের ঘৃণ্য নোংরা বাক্যগুলো বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। কড়ি দিয়ে কিনলাম ফিরিয়ে রেখে এলাম। বিষণ্ণ তারুণ্যে আমার পাশে কেউ ছিলনা। বিষণ্ণ আমি তখনো আকাশের দিকে চেয়ে থাকতাম। লাল-নীল-ধূসরের রঙের বৈচিত্র্য আমার বিরক্তির কারণ দেখিনা। সেদিন আমার বোন যখন বললো, আকাশ দেখো, আকাশে আজ অনেক আলো, ভরা পূর্ণিমা। প্রচন্ড বিরক্তিতে বমি বমি ভাব উঠে এলো। আমার বইয়ের তাক ভরে থাকা সেই শত-শত পাতার বইগুলোকে আমি বড় অগ্নিকুন্ডে ফেলে দিতে পারব। এই জীবনযুদ্ধের সাথে এইসব সাহিত্যমাখা স্বপ্নের যোগসূত্র নেই। আশাও করিনা।

আমি নাহয় বললাম কৈশোর মুগ্ধতার, তারুণ্য বিষণ্ণ, আর যৌবন? যৌবন আমার ঘৃণার। প্রতিটি দিনে অজস্রবার নিজেকে ঘৃণা করি। নিজের সীমাবদ্ধতা আর অসহায়ত্বকে ঘৃণা করি। পত্রিকার শিরোনামে চেয়ে ঘৃণা করি দেশের মাথার লোকদের। বাসে উঠতে গিয়ে পেছনের পকেটের মানিব্যাগে প্রায়ই হাতের স্পর্শ পাই, নিজের হাত ওতে চেপে ধরে ঘৃণা করি লক্ষ মানুষের দারিদ্রকে। আকন্ঠ ঘৃণায় ডুবে থেকে বেঁচে থাকি। জ্ঞানহীন মূর্খ অথর্ব অভিভাবকগুলোকেও ঘৃণা করি — যারা সন্তানদের বড় করে জীবন পার করে দেন, বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে ইতরের মতন গোঁ ধরে বসে থাকেন। সমাজ আর বংশের ট্রেডিশন রক্ষার নামে সন্তানদেরকে তাদের অগোচরের কুত্তা বানিয়ে ছেড়ে দেন, ওইরকম কুকুর আমি অনেক চিনি। শত শত জীবন্ত লালাঝরা কুকুর। ওইসব কুকুরকেও ঘৃণা করি আমি। আমার ঘৃণা হয় বিলবোর্ডের পেছনের ব্যবসায়ীদেরকে। ভ্যাসলিন বেচতে যারা ধবল নারীর কোমলতাকে প্রদর্শন করতে টপস পরিয়ে ১০০ গুণ বর্ধিত করে পথের ধারে টাঙ্গিয়ে দেন। একদিন তো তার স্ত্রী কন্যারাই বিবস্ত্র হবে রাস্তার ধারে, হবেই — এটা আবশ্যক পরিণতি!

ঘৃণা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ফিরে যাই পুরোনো স্মৃতিতে। আমার শৈশবে, ফেলে রেখে যাই ভালোবাসার কৈশোরকে। শৈশবের একটা স্মৃতি আছে। মরহুম নানীজানের ঘরে সন্ধ্যা হলেই চলে যেতাম। তার লেপের নিচে জায়গা পেতে মামাত ভাই আর আমার মাঝে প্রতিযোগিতা হত। ঢাকা থেকে যাবার কারণে, ক্লাসের ফার্স্ট থাকার কারণে সেইসময় জিতে যেতাম। অমন জয়ের পরিমাণ আমার জীবনে খুব কম। ভালোবাসা পেতে আমি চিরকাল পরাজিত। তবু নানীজানের আদরমাখা জড়িয়ে ধরা একটা সন্ধ্যার কথাই মনে পড়ে। তিনি যেদিন অজানার জগতে চলে আমাদের ছেড়ে যান, গ্রামের এমাথা ওমাথার সবাই কেঁদেছিল। অনাত্মীয় একজন ভাইকে হাউ-মাউ করে কাঁদতে দেখেছিলাম বড় খালামনিকে দেখে, খালামনির সাথে নানীর চেহারার অনেক মিল। সেই নানী এমনই মানুষ ছিলেন, কারো খেতে কষ্ট হলে তারা দুপুরে বিকালে তার হেঁশেলের পাশে এসে বসে পড়ত। নিজের খাবার দিয়ে দিয়ে না খেয়ে থেকেছেন বলে মেজ ছেলের বৌ তাকে অনেক বকা দিয়েছিল বলে গল্প শুনেছি।

আমি শীতের সময় গ্রামে যেতাম, ভোরের কুয়াশায় আম্মু বের হবার আগে সুয়েটার পরিয়ে দিতেন, কান ঢাকার একটা টুপি। আমি পায়ে রুপসা চপ্পল লাগিয়ে পেছনের দিকে চলে যেতাম বাড়ির। গরুর গাড়ির চাকার পাশে দাঁড়িয়ে বিশাল খড়ের গাদাগুলো দেখতাম, একেক বাড়িতে একেক উপায়ে সাজিয়ে রাখা হত। যেটা উচু করে সাজানো হত, যেন একটা ছোট টিলার মতন — সেইগুলো আমার বেশি ভালো লাগত। এই স্মৃতিচারণগুলোই আমার ঘৃণার মাঝে ভালোবাসার বাতাস বইয়ে দেয়। কেবল তখনই মনে হয়, হাবিব মামা আমাকে তেমনই এক সকালে ডেকে রোকেয়া মামির হাতে বানানো ভাপাপিঠা খাইয়ে ফেরত দিয়েছিলেন। আম্মু খুঁজতে এসে বকা দেয়ার মতন হতে মামা আমার হয়ে কথা বলেছিলেন। সেইসব স্মৃতিগুলো শুধুই নিখাদ ভালোবাসা। হাবিব মামা বদলে গেছেন, পরে রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, উপজেলার নানান শত্রুতার খপ্পরে পড়ে অনেক বয়স নেমে এসেছে তার জীবনে। শেষবার দেখে কষ্ট লেগেছিল আমার। সেই শক্তপোক্ত মামাটি আর নেই।

নিখাদ সেই ভালোবাসার স্মৃতিরাই আমাকে মনে করিয়ে দেয় — জগতে এখনো অনেক ভালোবাসা হয়ত আছে, তারা আমাকে স্পর্শ করে না। আমি দেখতে পাইনা, আমার উপরে সেই ভালোবাসা এসে পড়ে না। তাই এই ঘৃণাময় যৌবনকেও আমি ঘৃণা করি। যৌবন কখনই সুন্দর কিছু না। এই পৃথিবীর এই সময়ে যৌবন হলো চিরন্তন ভোগান্তির পথের দরজা। কাম-ক্রোধ-ঘৃণা-অশ্লীলতা-মিথ্যা জড়িয়ে ধরে থাকে প্রতিটি যৌবনকে। আমরা সেই নোংরা যৌবনের প্রাণী। ঘুমানোর আগে মাঝে মাঝে ঝাপসা হয়ে মনে আসে রুনি আপুর কথা, বাবু ভাইয়ার কথা। তাদের কোলে আমি কয়েকবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম — শৈশবে। সেই স্নিগ্ধ স্পর্শের অকলঙ্ক ভালোবাসারা হয়ত আজো আছে পৃথিবীতে, আমি জানিনা। আমি হয়ত হতভাগা…

_____________________________________________________________

সমাজের ছেলেমেয়েদের শরীর-মনের চাওয়া, বিলম্ব বিয়ে এবং চিন্তা-প্রতিবন্ধী অভিভাবকদের কথা

পোস্টের উৎসঃ http://www.sonarbangladesh.com/blog/safwan/140716

ব্লগার মোহায়মেন ভাইয়ের কোন চোখ দিয়ে দেখবো পড়লাম ভোরে উঠেই। অসাধারণ ক’টা লাইন, ছোট্ট একটা পোস্ট — গভীর কিছু জীবনবোধের কথা। পথ চলতে গিয়ে চোখে অনেক কিছু ভেসে ওঠে আমাদের – সবাই একভাবে দেখে না। দেখার দৃষ্টি বদলায় চিন্তার ক্ষমতার কারণে। তার লেখাটা গভীর চিন্তার প্রতিচ্ছবি। কিছু কথা জমলো যা লেখা দরকার… যেই সমাজে বিয়ে কঠিন হয়, সেই সমাজে ব্যভিচার সস্তা হয়ে যায়… 

একটি উচ্ছ্বল তরুণী যখন অনেক সাজুগুজু করে একটা ছেলের হাত ধরে রাস্তায় উড়ে উড়ে চলে — তখন তাকে দেখলে কে কী মনে করেন জানিনা, আমার মনে হত অন্যকিছু। এই মেয়েটা অনেক প্রস্তুতি নিয়েই রাস্তায় বের হয়েছে, সাজুগুজু মেয়েরা অনেক সময় নিয়ে চিন্তা করে। কালার ম্যাচিং, ফিটিং এটা ওটা। এরপর রাতের বেলা একটা ছেলের হাত ধরে পার্কে হাঁটা। হয়ত বাবা-মা তখন ভাবছেন — মেয়েটা ঢাকায় পড়াশোনা করছে। অন্তত তারা অনেক বড়ো কিছু স্বপ্ন নিয়েই তাদের পাঠান শহরে। ঢাকার মধ্যবিত্ত মেয়েরা রাত ঘরে পথে ঘুরেনা সচরাচর। পরিবারগুলো একদমই বিকিয়ে যায়নি।

বিকিয়েছে সংস্কৃতি। প্রতিটি ঘরেই স্যাটেলাইন কানেকশন। হিন্দি নায়িকারা বিকিনি, টপস পড়ে নিজেদের শরীরের বিভঙ্গকে পুরোপুরি তুলে দেয় ক্যামেরার কাছে। সারাদিন সিরিয়ালে দেখা যায় সুন্দরী প্রদর্শনক্ষম মেয়েদের মূল্য, আকর্ষন। ‘সিক্সপ্যাক’ শব্দটা আগে শোনা যেতনা — এখন ছেলেরা প্যাক অর্জনের যন্ত্রণায় অস্থির থাকে। যতই জ্ঞানীগুণী আর হুজুরের পরিবার হোক, এখনকার কিশোর-কিশোরীরা এগুলো অবশ্যই অবশ্যই জানে –এগুলোই তাদের চারপাশ। তাদের এফএম রেডিও সারাদিনই প্রেমের গানে, প্রেমের আলাপে, লাভগুরুতে ভরপুর থাকে। ফ্রেন্ডসদের আড্ডাবাজির এসএমএস পড়ে শোনায়। যাদের কোন মেয়ে/ছেলে নাই “আড্ডা” মারার, “গল্প” করার, “পিকনিক” করার, “ফোনে কথা” বলার — তারা নিজেদের অসহায় ভাবতে বাধ্য হয়। পারিবারিক জ্ঞান বাবা-মা দিয়ে রাখলে সেক্ষেত্রেও তাদের যুদ্ধ হয় কঠিন যুদ্ধ। প্রতিদিন, অনেকবার। বয়ষ্করা এসব জানেনা, বুঝতেও পারবে না ভিতরে এসব কালচার কীভাবে কাজ করে, আমরাই পারিনা ঠিকমতন! মাত্র ১০বছর আগে অমন ছিলাম তাই অনেক ব্যাকডেটেড আছি!!

একটা ছেলে তার বন্ধুদের মাঝে গিয়ে শুধু গার্লফ্রেন্ডের আলাপ শুনে — তার কাছে মনে হতে থাকে, আমারো হয়ত থাকা উচিত ছিল। তার সামনে অকূল পাথার, নৈতিকতার সাথে যুদ্ধ। ক’দিন? শরীর আর মনের এই অমোঘ চাওয়ার সাথে ক’দিন যুদ্ধ? ১৬-১৭ তে পরিপূর্ণ বড় হয়ে যাওয়া ছেলেটি সামনে ১০ বছরের বেশি সময়ের নিরাশার দেখা খুজে পায়। বিয়ে হয় এখন ৩০ বছরে। আগে তাদেরই কেবল বিয়ে হয় — যাদের সম্পদ বেশি। এবং তারা প্রেম করে ধনী মা-বাবার ঘাড়ে উঠেই খরচা করে বিয়ে করে। তাহলে? ১৫ বছর এই ছেলেটা প্রতিটি দিন, প্রতিবেলা যুদ্ধ করে যাবে? আর বাবা-মা কখনই তাদের হয়ে ভাবেন না। আর সম্ভাবনার সীমানা দেখতে না পাওয়ায় তাদের “স্বাভাবিকভাবেই” হতাশা আগলে ধরে।

অনেক সুশীল ইতর লোক আছে — এমন আলোচনায় এসে টাকা ইনকামের প্রয়োজনীয়তার গল্প ফাঁদবেন। টাকা দিয়ে বিয়ে হয়না, চলার পথেও টাকার ব্যাপার যা — তার চাইতে অনেক বেশি স্বভাব আর চরিত্র। চরিত্রহীন সন্তান বা স্বামীর টাকা দিয়ে কারো কিছুই আসে যায় না। অথচ, এই টাকার দেখা, উপার্জনক্ষমতা তখন আপনার কাছে মূল্যহীন হবে, যখন আপনার সন্তান অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে বাসায় ফিরবে। হয়ত তাকে এই শহরের চিপায় চাপায় দেখা যাবে আর ক’দিন পরেই। তখন উপার্জন ধুয়ে পানি খেতে হবে এইসব বেকুব অভিভাবকদের।

পূর্বের প্রজন্মের পাপ, অলসতা, বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতার খেসারত আমাদের নোংরা সংস্কৃতি। সেই অভিভাবকরা আবার সংস্কৃতির উত্তাপের কড়াইতে পরের প্রজন্মকে ভেজে ভেজে লবণ ছিটিয়ে দেন তাদের কথার বুলিতে। অভিভাবকরা তো তাদের উপযুক্ত শিক্ষা পাবেই — তারা কোনদিনই শান্তি পাবেন না অন্তরে — এইটা আমি হলফ করে বলতে পারি। বেকুবদের শান্তি পাবার অধিকার নেই। 

একটা ছেলে ভার্সিটি লাইফে ক্লাস করে ফিরে পরের দিন ল্যাব/কুইজ না থাকলে কি করে বাসায়/হলে? তার আশেপাশের সবই তার পশুত্বকে জাগিয়ে তোলার জিনিসপত্র। টিভি চ্যানেল, মুভি, নাটক, গান, পত্রিকা, টেলিভিশনের অ্যাড — সে যদি শুধুই যুদ্ধ করে। ঘরে শিক্ষা না থাকলে ফোনে মেয়েদের কাছে পৌছাতে চায়। রোমান্স আজকাল পথে ঘাটেই থাকে। ভ্যাসলিনের কোমলতা বুঝাইতে টপস পরা মেয়েদের বিলবোর্ডে দেখা যায়। নারীর উন্মুক্ত বগল প্রদর্শনী থাকে ডিওডোরেন্টের অ্যাডে — ধানমন্ডীর মূল রাস্তায়। বছরের পর বছর ‘ভালোবাসার টানে, পাশে আনে’ — বিলবোর্ডে ছেলের বুকে একটা মেয়ে মাথা রেখে হেলান দিয়ে থাকে বিশাল মাঠের ঘাসে। আর এসব থেকে বছরের পর পছর একটা ছেলে যুদ্ধ করতে থাকবে — তাকে অভিভাবকরা সন্নাসী মনে করে, নাকি নপুংসক মনে করে — কে জানে? নীতিকথায় শরীর ভিজে? ক’দিন থিওরি বুঝিয়ে সামলাবেন এইসব?

যেই সমাজে বিয়ে কঠিন হয়, সেই সমাজে ব্যভিচার সস্তা হয়ে যায়। 

আমার এই লেখা কেউ পড়ুক না পড়ুক। আমি জানি এই ভয়াবহতা কত বেশি। একটা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের হাল। যারা সংকীর্ণমনা নির্বোধ ইতর, তারাই কেবল এই কথার প্রতিবাদ করবে — চিন্তিত না হয়ে। কেননা, আপনি/আপনার সন্তান হয়ত সাময়িকভাবে মুক্ত (আমি বিশ্বাস করিনা, কেননা পদস্খলনে কয়েক মূহুর্ত লাগে), কিন্তু তারা যাদের সাথে চলে — অথবা এই সমাজেরই আরো অনেক ছেলেমেয়ে সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়ে চলেছে। নীতির কথা তাদের কাছে হাস্যকর। তারা আপনাদের ভেজে খাবে। আপনাদের চিন্তার অসারতার কারণেই তা হবে, হবেই। আমি হলফ করে বলতে পারি।

একটা ছেলে পাশ করে চাকরি করলেও হয়না। তাকে অনেএএএক টাকা ইনকাম করতে হবে। এই ছেলের সম্ভাব্য বউ ততদিনে কলেজ ভার্সিটিতে ডজনখানেক রোমিওর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বসে থাকে। এরপর ৩০বছর, ৩২ বছরে সবাই ছেলেটিকে বিয়ে দিতে অস্থির হবে — তখন তার চরিত্র কেমন আছে কে জানে, মেয়েটারটাও কে জানে। বিয়ের পবিত্র আবেগ বহু আগেই তাদের হারিয়ে ক্ষয়ে যায় — তা যে কেউ বুঝে। শারীরিক-মানসিক এই চাওয়া পূরণে তারা যে আগেই কোথাও সাময়িক ঢুঁ মারেনি তাইবা কে জানে?

মুর্খ অভিভাবকদের চোখে পড়েনা এখনকার ডিভোর্স রেট? চোখে পড়েনা সবখানে অশ্লীলতা দেখে? তার সন্তানটি কী ভাবছে মনে করেন তারা? বিয়ের বয়সটা ছাত্র জীবনে রাখলে কী সমস্যা হবে? দায়িত্ববোধ যার কখনই ছিলনা, তার কখনই হবেনা। ছেলের ও মেয়ের বাবা মা আরো কিছুদিন (বিয়ের পরেও) ভরণপোষনের দায়িত্ব নিলে কি সমস্যা? তাদের কি সন্তানের চরিত্রের চাইতে লোকে কি বলবে –সেটাই বড় বিষয়? এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেক অল্পতেই শারীরিক ব্যাপারগুলো ভালো করে বুঝে ফেলে। দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে সপাত্রে/সপাত্রীতে হস্তান্তর করে দিতে না পারলে ভুক্তভোগী পরিবারের হর্তাকর্তারাই হবে — হচ্ছে হরদম।

অথচ এসব ভাবার কেউ যেন নাই। একদিন পারিবারিক বন্ধনগুলো সব ধ্বংস হবে — তখন হয়ত টের পাবে। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা সঙ্গীন। প্রতিটি ছেলেমেয়েরই নৈতিক অবস্থা ভয়াবহ। এখানে এগিয়ে আসার কেউ নাই। আফসোস। সজ্ঞানে বিগত ৫-৭ বছর ধরে এসব দেখতে দেখতে আজকে প্রথম লেখলাম। না লিখে পারলামনা। এই চিন্তাগুলা প্রতিদিনই আমাকে আতঙ্কগ্রস্ত করে।

যারা সবকিছুকে এড়িয়ে চলতে পারে — তারা এই লেখাকেও এড়াবে। আমি এই চিন্তাগুলোর বাস্তবতা খুব ভালো করে দেখছি। শত শত সমসাময়িক ছেলেমেয়েকে উদাহরণ হিসেবে জানি। হাজারখানেক ছেলেমেয়ের সার্কেলের ও কালচারাল ট্রেণ্ড জানি। অভিভাবকরা পদক্ষেপ না নিলে একটা ধ্বংস অবধারিত। যেহেতু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে ঠেকানোর উপায় নেই — পরিবারকে ঠেক দেয়াই এখনকার প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত। তাই বলছি, বিপদে যাবার আগে, সমাজকে ধ্বংস হতে দেবার আগে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে, নৈতিক শিক্ষা বলীয়ান করে সন্তানদের বিয়েকে এগিয়ে নিয়ে আসুন। ৩০-৩২ বয়েসে ছেলেদের, ২৫-৩০ বয়সে মেয়েদের বিয়ে না নিয়ে তাকে যথাক্রমে ২২-২৫ এবং ১৮-২২ বছরে নামিয়ে আনলে সামগ্রিক ক্ষতি নেই। অন্যথা? সাধু সাবধান!!

জাফর ইকবালের “তোমরা যারা শিবির করো” বনাম এক যুবকের “তোমরা যারা জাফর ইকবালকে পছন্দ করো”

Dr. Zafar Iqbal, a well known scientist and science fiction writer of Bangladesh, recently published a column in Prothom Alo to criticize the activities of Chatro Shibir, the student wing of Bangladesh Jamaate Islami. As he always does, and there is no doubt that he does this intentionally, in the process of criticizing Chatro Shibir, Dr. Iqbal once again openly showed his hatred for Islam. Dr. Iqbal is a well known atheist, and through countless articles published in many dailies, he publicly confirmed his extreme dislike for Islam. So, this recent column titled তোমরা যারা শিবির করো is not unique. Nonetheless, Brother Tanvir Ahmad Arjel produced a fitting reply to Dr. Iqbal’s recent column, and Tanvir’s reply has been cross-posted below from his facebook note. I would like to make it clear that neither brother Tanvir nor I endorse or associate ourselves with Jamaate Islami in any form, since Jamaat’s ideologies are not compatible with Islam at all. Rather Brother Tanvir’s reply only points out how Dr. Iqbal bashed Islam in the name of bashing Jamaate Islami.

_____________________________________________________________

14703_4367508980927_1058158942_n

বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম

স্যার আমি জানি আমার এই লেখা হয়তো আপনার কাছে পৌঁছবেনা, পৌঁছলেও হয়তো পড়ে দেখার সময় আপনার হবে না। তারপরেও লিখলাম যেন আপনার অন্ধ অনুসারীরা আপনাকে অনুসরণ করার আগে,আপনার কথাগুলো, আপনার চিন্তাগুলো মেনে নেয়ার আগে একটু চিন্তা করেন।

স্যার প্রথমেই বলে রাখি আমি কোন শিবির কর্মী না বা জামাতের কেউ না। তারপরেও আপনার তোমরা যারা শিবির করো লেখাটির উত্তর দিতে বসলাম কারণ আপনার এই লেখার কিছু কিছু বিষয় এতই নিচু মানের মূর্খের মতো মনে হয়েছে যে একজন রিক্সাওয়ালাও আপনার চেয়ে এই বিষয়গুলোতে ভালো বুঝে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি ছাত্র শিবিরের ছেলেদের নিয়ে অনেক হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন অনেকটা লোক দেখানো কপট ভালোবাসার মত। হয়তো অনেকেই আপনার এই কপট চরিত্রটি বুঝে উঠতে পারবেনা কারণ আপনি হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ ধূর্ত অমানুষ (অমানুষ বললাম কারণ যে তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনেনা আমি তাঁকে অমানুষই বলি)। ছাত্র শিবিরের ছেলেদের নিয়ে আপনার যে হতাশা তা কিন্তু এই জন্যে নয় যে তারা যুদ্ধাপরাধী জামাতের আনুগত্য মেনে নিয়েছে বরং তারা যে ইসলামকে পছন্দ করে বা ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে চায় এই জন্যেই আপনার এত হতাশা। কারণ আমি কোনদিন আপনাকে ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের ছেলেদের নিয়ে আক্ষেপ করতে দেখিনাই কারণ তারা সন্ত্রাসী করুক,চাঁদাবাজি করুক আর ধর্ষণের সেঞ্চুরি করুক বা আর যাই করুক না কেন অন্তত তারা মৌলবাদী না, তারা ইসলাম মানেনা। তারা ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহরা আর মেয়েদের ওড়না টেনে নিয়ে গেলেও আপনি তাঁদের নিয়ে অনেক আশাবাদী ,আপনি তাঁদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন কারণ তারা আর যাই করুক না কেন তারা অন্তত ইসলামের ধার ধারেনা, নৈতিকতার ধার ধারেনা। আমি ভালো করেই জানি আপনার কাছে ছাত্র শিবির, হিযবুত তাহরীর বা তাবলীগ, এমনকি কোন দল না করা ইসলামপন্থী ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ইসলামপন্থী সবাই আপনার কাছে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ, সেকেলে এবং উগ্রবাদী। আপনার যত হতাশা সকল ইসলামপন্তী ছেলেমেয়েদের নিয়েই। আপনার এই চরিত্রটা এখন আর কোন সচেতন মানুষের অজানা নয়। আপনি নিজেকে খুব মুক্তমনা দাবী করেন করেন কিন্তু আপনি নিজেকে নিয়ে কখনো একবার ভেবে দেখেননি যে আপনি কত বড় সঙ্কীর্নমনা, কত বড় সেকেলে। আপনি আপনার লেখায় লিখেছেন যে ছেলেমেয়েরা যেন এই তরুণ বয়সে এইসব ধর্ম কর্ম বাদ দিয়ে মুক্তমনা হয়, অসাপ্রদায়িক হয়, রবীন্দ্রসংগীত  শোনে আরও কত কি? তবে সবচেয়ে ভয়াবহ যেটা বলছেন সেটা হল আপনি চান এই বয়সে তরুণ ও যুবক ছেলেরা মেয়েদের সাথে প্রেম করবে!! ঘুরে বেড়াবে!!আড্ডা দিবে এবং মাঝে মাঝে সইতে না পেরে লিটনের ফ্লাটে যাবে। স্যার এবার আপনাকে কিছু কড়া কথা বলবো। স্যার আপনি যেমন মুক্তিযুদ্ধের সকল হত্যাকাণ্ডের জন্যে জামাত ও ছাত্রসংগকে দায়ী করেন ঠিক এমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী বাংলাদেশে যতগুলো ধর্ষণ হয়েছে, বয়ফ্রেন্ডের দ্বারা যতগুলো মেয়ের সেক্স ভিডিও বের হয়েছে, যতগুলো ছেলেমেয়ে প্রেমঘটিত বিষয়ে আত্মহত্যা করেছে, এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছে তার সবগুলোর জন্যে দায়ী হচ্ছেন আপনি, আপনার মত পরগাছা বুদ্ধিজীবিরা আর আপনার এবং অশ্লীলতার প্রচারক প্রথম আলো গংরা। কারণ আপনি, আপনার মত কুবুদ্ধিজীবিরা এবং প্রথম আলো গংরা এইসব মতবাদ ও অশ্লীলতার ধারক, বাহক এবং প্রচারক। স্যার আমার খুব জানতে মন চায় আপনার মেয়ে যদি কোন ছেলের সাথে প্রেম করে সেক্স করে তারপর ছেলেটি সেই সেক্স ভিডিও বাজারে ছেড়ে দেয় তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আমি জানি আপনি বলবেন প্রেম করাটা, প্রেম করে সেক্স করাটা কোন অপরাধ নয় কিন্তু ভিডিও করাটা, তারপর প্রেম ভেঙ্গে গেলেই সেই ভিডিও বাজারজাত করাটা অন্যায়, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা। এমনকি আপনি তখন আপনার মেয়ের সাফাই গাইতেও ভুলবেন না, বলবেন আপনার মেয়ে কোন ভুল করেনি, আপনার মেয়ে ছেলেটিকে বিশ্বাস করেছে, বিশ্বাস করে ভালোবেসে বিছানায় গিয়েছে। স্যার আপনাদের মত জাফর ইকবালদের কারণেই আজকের এই  পৃথিবীতে এত অশান্তি, এত সন্ত্রাস, এত চাঁদাবাজি, এত নোংরামি। আপনাদের মতো জাফর ইকবালদের কারণেই এই পৃথিবীটা সুস্থ মানুষদের জন্যে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আপনাদের মত জাফর ইকাবালদের কারণেই পৃথিবীটা অনৈতিকতায় ভরে গেছে, আপনাদের মত জাফর ইকবালদের কারণেই একজন মা তার মেয়েকে বাহিরে পাঠিয়ে শঙ্কিত থাকে কখন না জানি তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয় কারণ আপনাদের মত জাফর ইকবালরা ধর্ষণ মতবাদের প্রচারক, নৈতিকতাহীন মতবাদের প্রচারক। স্যার মনে করিয়েন না আপনাদের এইসব কর্মের জন্যে কোন হিসেব বা জবাবদিহিতা করতে হবে না। ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি দিয়ে এই পৃথিবীর কাঠগড়া পাড়ি দিতে পারলেও আখিরাতের কাঠগড়া কখনোই পাড়ি দিতে পারবেন না যতদিন না বেঁচে থাকতে এইসব কাজের জন্যে তওবা করে পরম করুণাময়ের পথে ফিরে আসেন। স্যার শেষ করার আগে আপনার সাথে সুর মিলিয়ে আমিও কিছু কথা বলতে চাই-

“কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করে এই ছোট্ট জীবনে সবচেয়ে বিচিত্র, সবচেয়ে অবিশ্বাস কি দেখেছ আমি অবশ্যই বলবো জাফর ইকাবালদের দেখেছি, দেখেছি তাঁদের অনুসারীদের। তার কারণ, যে জীবনটি হচ্ছে একটা পরীক্ষা ক্ষেত্র, রবের ইবাদত করে কাটানোর সময় সেই সময়ে তারা কি করে সেই রবের অকৃতজ্ঞতায় কাটায়, ইসলাম বিরোধিতায় কাটায়। যে সময়টাতে তাঁদের হাতে থাকার কথা আল কোরআন, আল হাদিস, আল্লাহ্‌ রাসুলের জীবনী সেই সময়টাতে কি করে তারা রাসেল, আরজ আলী মাতাব্বর আর নৈতিকতাহীন প্রেমের উপন্যাস পড়ে কাটায়। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন জাফর ইকবালদের হাতে, তাঁদের অনুসারীদের হাতে এইসব বইয়ের পরিবর্তে থাকবে আল কোরআন, আল হাদিস আর আল্লাহ্‌ রাসুলের জীবনী। আমার সেই স্বপ্ন যেন আল্লাহ্‌ তায়ালা বাস্তবে পরিণত করেন এই দোয়া রেখেই আমার এই লেখা শেষ করছি।” তবে শেষ করার আগে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের উদৃতি দিয়ে শেষ করতে চাই। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ-

“আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা আদৌ দেয়াই না হতো এবং আমার হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম তাহলে কতই না ভালো হতো। হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো! আজ আমার অর্থ সম্পদও কোন কাজে আসলো না। আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিও বরবাদ হয়ে গেল।”– সুরা আল হাক্কাহঃ ২৫-২৯